বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও রেকর্ড গড়ে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরল। ডলারের মান কমে যাওয়া এবং মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা বা ইল্ড হ্রাস পাওয়ার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ হাজার ৮৩০ ডলারের ঘর ছাড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আন্তর্জাতিক লেনদেনের চিত্রে দেখা যায়, স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ বিনিয়োগের দিকে নতুন করে আকৃষ্ট করছে।
একই সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও স্বর্ণের দাম বেড়ে ৪ হাজার ৮৫০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের দরপতনই মূলত স্বর্ণের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।
যখন ডলার দুর্বল হয়, তখন অন্যান্য দেশের মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ কেনা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও সহজ হয়ে যায়, যার ফলে বৈশ্বিক বাজারে এর চাহিদা বাড়তে থাকে। এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি মার্কিন বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ায় বড় বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজার বা বন্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে এখন স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার পারদ কিছুটা কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাজারকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে।অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন যে স্বর্ণের দাম যদি বর্তমান ধারায় ৪ হাজার ৯০০ ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করতে পারে, তবে খুব দ্রুতই তা ৫ হাজার ডলারের নতুন উচ্চতা স্পর্শ করতে পারে।
বর্তমানের এই ইতিবাচক প্রবণতা কেবল স্বর্ণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং আন্তর্জাতিক বাজারে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালেডিয়ামের মতো অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও আজ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। সামগ্রিকভাবে বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিতিশীলতা ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় স্বর্ণ এখন সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।